মিতসুবিশি আউটলেন্ডার

আজকের বিষয় মিতসুবিশি আউটলেন্ডার

৪৫ লাখ টাকার আসেপাসে আউটলেন্ডার খুব সুপিরিওর আর প্রাকটিক্যাল একটা প্যাকেজ।যাদের বাজেট ৪৫ লাখ টাকার আশেপাশে তাদের প্রাইমারি ৩টা অপশন থাকে,
হোন্ডা সিআরভি
নিসান এক্সট্রেইল
মিতসুবিশি আউটলেন্ডার

এই ৩টা গাড়ির মধ্যে আউটলেন্ডারই একমাত্র প্লাগ-ইন হাইব্রিড অপশন, যার জন্য এটা আলাদা একটা জায়গা করে নিয়েছে নিজের জন্য। বাংলাদেশে একমাত্র প্লাগ-ইন হাইব্রিড এসইউভি। আরেকটা আছে প্রিয়াস প্লাগ-ইন কিন্তু ওটা সেডান।

আউটলেন্ডার কাদের জন্য?
ওয়েল যাদের বাজেট একটা এসইউভির, ৫ সিটার বা ৭ সিটার খুজছেন, যেটা আপনাকে এসইউভির সব সুবিধার পাশাপাশি তেল খরচ অনেক কমিয়ে দিবে। নতুন আউটলেন্ডারগুলো ফাস্ট চার্জিং ক্যাপাসিটি জাস্ট ৩০ মিনিটে 80% চার্জ করে ফেলতে পারে ব্যাটারি। আরেকটা বড় ঝামেলার হাত থেকে বাচলেন বার বার ফুয়েল স্টেশনে দৌড়াতে হবেনা। একবার ফুল চার্জে প্রায় 40 কিলো পর্যন্ত যেতে পারবেন কোন তেল খরচ না করে।ডেইলি 40 কিলো হলে হয়ত অনেকের তেল ডুকানোর ই দরকার নাই কারন সিটিতে আমাদের এভারেজ রান ই 40-50 কিলোর মত। আবার আপনার বাসার পার্কিং এর নরমাল লাইন থেকেও চার্জ দিতে পারছেন, এইসব সুবিধা এক্স ট্রেইল কিংবা সিআরভি কোনটাতেই কিন্তু পাবেন না।
তাছাড়া গাড়িটাও দেখতে কিন্তু অনেক সুন্দর, নতুন আউটলেন্ডার গুলোর ফ্রন্ট ডিজাইন জাস্ট ওয়াও। বিশেষ করে সামনের গ্রিলটা, এটাকে তারা বলে “ডাইনামিক শিল্ড” দেখতে অনেক সুন্দর লাগে, বনেটের উপর সুন্দর করে লিখা আউটলেন্ডার। মোটকথা এটা একটু রয়েল ফিল দিবে যেখানে এক্সট্রেইল একটু স্পোর্টি ফিল দেয়। আউটলেন্ডার এর সিম্পল বনেট, মারাত্নক সুন্দর গ্রিল, পেছনের ফোলানো এলইডি টেইল-লাইট এইসব দেখলেই মনে হবে এটা একটু ক্লাসি করে বানানো।

এক্সটেরিওরঃ ডিজাইন নিয়ে কোন কমপ্লেন নেই আগেই বলেছি এটা একটু ক্লাসি করে বানানো,সবকিছু সিম্পল কিন্তু সুন্দর, আবার সিম্পল রাখতে গিয়ে টেক এর দিক দিয়ে কম্প্রোমাইজ করেনাই; সুন্দর এলইডি হেড আর টেইল-লাইট,ইনাফ লাগেজ স্পেস সবকিছুই পার্ফেক্টলি ডান।
ইঞ্জিনের ব্যাপারে একটু বলি আমরা সাধারণত যেটা দেখি ২০০০ সিসি পেট্রোল ইঞ্জিন সাথে দুইটা ইলেকট্রিক মোটর। নরমাল ২০০০ সিসি ইঞ্জিন থেকে 119hp আউটপুট আসে আর ইলেট্রিক মোটর থেকে 60 সহ টোটাল কম্বাইনড হর্সপাওয়ার 189hp, টর্ক কিন্তু অনেক 245Ib। এই পরিমাণ টর্ক আসলে দরকার কারন এসইউভি হিসেবে অনেক হেভী,তারউপর বিশাল ব্যাটারি প্যাক। ও আরেকটা কথা বলা হয়নি এর ব্যাটারি এতই পাওয়ারফুল যে আপনি জাস্ট ব্যাটারি দিয়েই 4WD -তে চালাতে পারবেন। ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে গেলেও অসুবিধা নাই তখন এটা নরমাল গাড়ির মতোই তেলে চলতে থাকবে, আরেকটা সুবিধা হচ্ছে হাইব্রিড হওয়ায় গাড়ি চালানোর সময় ব্রেকিং আর এক্সেলেরেটিং থেকেও ব্যাটারি চার্জ হতে থাকবে + ইলেকট্রিসিটির চার্জ তো আছেই। সো তেল খরচ এক্সট্রিমলি কমে যাবে, দেখা গেছে প্রতিদিন চার্জে দিলে মাসে ১০০০-১৫০০ টাকা ইলেকট্রিসিটি বিল আসে। এই সুবিধা আপনি আর কোন গাড়িতেই পাবেন না। আরেকটা কথা, এটার কিন্তু একটা V6 ভ্যারিয়ন্ট আছে!
অফ রোডিং এ আউটলেন্ডার খুব ভাল পারফর্ম করে, হাই গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স, তুলনামূলক সফট সাসপেনশান, হিটেড সিট,হিটেড স্টিয়ারিং হুইল খুব কম্ফোর্টেবল একটা রাইড দিবে। আর অফ রোডিং এর জন্য এটার AWD দিয়ে আপনি যে কোন উচুঁ নিচু জায়গা,পাহাড়,আপহিল-ডাউনহিল সব জায়গায় যেতে পারবেন কোন অসুবিধা নাই।

ইন্টেরিওরঃ এক্সটেরিওরের মতো এখানেও সবকিছু খুব জেন্টেলি ডান। পুশ স্টার্ট বাটন আছে বারবার চাবি ঘুরানোর প্যারা থেকে বাচাঁতে, মাল্টি ফাংশনাল স্টিয়ারিং হুইল আছে; স্টিয়ারিং হুইলটা এ্যাডজাস্ট করা যায় পারসন অনুযায়ী, স্টিয়ারিং থেকেই মিউজিক,ভয়েস কমান্ড,ইনফোটেইনমেন্ট কন্ট্রোল সবই করতে পারবেন ইজিলি। যদি টপ ট্রিমে যান তাহলে হাই কোয়ালিটি নেপাল লেদার সিট পাবেন যেগুলো এক্সট্রিমলি কম্ফোর্টেবল আর ইজি টু ক্লিন।
এমনিতেও হেডরুম-লেগরুম যথেষ্ট, কারও কোন প্রবলেম হবেনা কম্ফোর্টেবলি বসতে। ইনফোটেইনমেন্ট ডিসপ্লে কিছুটা ওল্ড আর ইনফরমেশনও কম দেখায়, তবে 2017 সাল থেকে ইনফোটেইনমেন্ট কিছুটা আপগ্রেড করেছে সাথে এপল কার প্লে আর এ্যান্ড্রয়েড অটোও এড করেছে। ও আপনার যদি 7 সিটার দরকার হয় তাহলে সেই অপশনও আছে, তবে 7 সিটারে লাগেজ স্পেস কিছুটা কম 5 সিটার থেকে। গাড়ি ড্রাইভ করে যথেষ্ট আরাম পাবেন উইথ ইউর ফ্যামেলি, S-AWD থাকায় যে কোন অফরোডিং ও করতে পারেন আর ফুয়েল কস্টও হবে এক্সট্রিমলি লো। আর কি চাই এই প্রাইস রেঞ্জে!

আউটলেন্ডার 4টা গ্রেডে আসে,

ES
SE
SEL
GT S-AWC

ES: এন্ট্রি লেভেল গ্রেড, টোটাল 7 টা এয়ারব্যাগ থাকবে। এন্ট্রি লেভেল হলেও অনেক হাই টেক ফিচার আছে,
* 18 ইঞ্চি এলয় হুইল।
* 7 সিটার অপশন।
* হিটেড সাইডভিউ মিরর।
* LED পজিশনিং লাইট।

SE: এটা ES -এর পরের গ্রেড, এটাতে ES এর সব অপশনই থাকবে + আরও কিছু টেকনোলজিক্যাল ফিচার এক্সট্রা পাবেন। SE ফ্রন্ট হুইল ড্রাইভ অথবা অল হুইল ড্রাইভ দুইটাতেই আসে। ES এর সব অপশনের সাথে আরও এক্সট্রা থাকবে,

* রেয়ারভিউ ক্যামেরা।
* কি-লেস এন্ট্রি সাথে এলার্ম সহ।
* সামনের সিটগুলো হিটেড হবে।

SEL: এই গ্রেডের স্পেশালিটি হচ্ছে লাক্সারি লেদার সিট হবে সাথে মিতসুবিশি নতুন একটা টেকনোলজি এনেছে S-AWD যেটা আপনার ফোর হুইল ড্রাইভকে আরও স্টেবল করবে। এই গ্রেডে FWD বা S-AWD দুইটা অপশনই পাবেন। সাথে আরও থাকবে,

* পশ লেদার সিট।
* 8 ওয়ে পাওয়ার এ্যাডজাস্টেবল ড্রাইভার সিট।
* কি-লেস ফাস্ট এন্ট্রি।

GT S-AWC: আউটলেন্ডারের সবথেকে প্রিমিয়াম গ্রেড। এটা শুধুমাত্র S-AWD অপশনে আসবে FWD পাবেন না। এই গ্রেডটায় কিছু মারাত্নক প্রিমিয়াম ফিচার পাবেন,

* গ্লাসের পাওয়ার সানরুফ।
* 9 টা স্পিকারের 710 ওয়াটের Rockford-Fosgate প্রিমিয়াম সাউন্ড সিস্টেম। সাথে ১০ ইঞ্চি ডুয়েল ভয়েস কয়েল সাবউফার।

কিছু স্টান্ডার্ড ফিচার যেগুলো সব গ্রেডেই পাবেন,

* 7 সিটার অপশন।
* S -AWC বা সুপার অল-হুইল কন্ট্রোল।
* LED হেডলাইট।
* রিমোট লিফটগেইট।
* 18 ইঞ্চি এলয় হুইল।

দামঃ দাম নিয়ে আগেই ৪৫ লাখ টাকার উপরের সেগমেন্ট এটা। মোটামোটি এরকম বাজেট থাকলে একটা আউটলেন্ডার হয়ে যায়; টপ গ্রেডে গেলে হয়ত দামটা আরও কিছুটা বেড়ে যাবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *